..

রপ্তানির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭% শুল্ক: নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মুখে বাংলাদেশ

ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী রপ্তানির উপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শুল্ক হার প্রযোজ্য। বাংলাদেশের চেয়ে আগে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের যাদের ওপর ৪৪% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর শুল্ক হার তুলনা: 

শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার: ৪৪% 

বাংলাদেশ: ৩৭% 

পাকিস্তান: ২৯% 

ভারত: ২৬% 

ভুটান ও মালদ্বীপ: ১০% 

প্রস্তুত পোশাক শিল্পের হুমকি 

বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প এই নতুন শুল্কের মুখে বিশেষ ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশী পোশাকের একটি বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বছরে ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়—যার মধ্যে নন-নিট স্যুট, শার্ট ও নিটওয়্যার অন্তর্ভুক্ত। এই খাতটি বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮০% এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান জায়গা। উচ্চ শুল্ক এই খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। 

অন্যান্য রপ্তানি খাতেও ঝুঁকি 

পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান রপ্তানি খাতগুলিও ঝুকিতে পড়বে। উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে: 

পাট ও পাটজাত পণ্য: "সোনালি আঁশ" নামে পরিচিত এই খাতে যার মধ্যে রয়েছে কাঁচা পাট, পাটের সুতা ও বিভিন্ন পাটজাত দ্রব্য। 

জুতা: চামড়া ও নন-লেদার জুতা। 

মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য: চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক পণ্য ।

চামড়াজাত পণ্য: ব্যাগ, ওয়ালেট ও বেল্টের মতো পণ্যগুলো জনপ্রিয় রপ্তানি আইটেম। 

টেক্সটাইল ও অন্যান্য বস্ত্র: পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশ কাপড় ও সুতা রপ্তানি করে। 

হেডগিয়ার ও ক্যাপ: একটি বিশেষায়িত খাত হলেও এটি উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্য। 

ফার্মাসিউটিক্যালস: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিসহ একটি সম্প্রসারিত শিল্প। 

কৃত্রিম ফুল ও পালক: নির্দিষ্ট বৈশ্বিক বাজারের জন্য উৎপাদিত বিশেষ পণ্য। 

অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত 

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (SANEM)-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট বড় ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এই নীতি মার্কিন বাজারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে, যা দেশের বৈশ্বিক রপ্তানির ১৭-১৮%। 

২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ১.১% বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নতুন শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ পোশাক শিল্পের জন্য মার্কিন বাজারে অবস্থান ধরে রাখাকে কঠিন করে তুলতে পারে।এতে রপ্তানি আয় অনেক কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। 

বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রেক্ষাপট 

এই নীতি WTO-এর সর্বাধিক favored nation (MFN) নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়, যা একটি বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চিত বাণিজ্য পরিবেশ সৃষ্টি করছে। H&M-এর মতো খুচরা বিক্রেতারা সতর্ক করেছে যে, এই শুল্ক মার্কিন ভোক্তাদের জন্য দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা করছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

Share this post: